একজন মা তার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে গেলেন ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার চিকিতসার ব্যবস্থা করলেন। লিখে দিলেন কিছু ওষুধ। বললেন, রোগীকে বাড়িতে নিয়ে ঠিকমত যত্ন আর এই ওষুধ দিলে সু্স্থ হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। মা তার ছেলেকে বাড়িতে আনলেন, ওষুধ দিলেন খেতে। এর মধ্যে কেটে গেল দু'দিন কিন্তু রোগী সুস্থ হলো না। কেউ একজন বললেন কবিরাজের কাছে নিয়ে যাান ছেলেকে। মা তাই করলেন। কবিরাজ রোগীর মাথার তালু থেকে কিছু চুল উঠিয়ে একটি গাছের পাতা বসিয়ে দিলেন তাতে। খেতে দিলেন কিছু ছাল-পাতা বাটা। হাতিয়ে নিলেন বড় অংকের একটা কিছু। তাতেও সারলো না ছেলের অসুখ। মা আগের ডাক্তারের কাছেই গেলেন আবার। ডাক্তার বললেন, আমার দেয়া ওষুধ গুলো খাইয়েছেন? 'খাওয়ালে কী হবে, রোগ তো সারে না ডাক্তার।' বললেন মা। ডাক্তার আগের ওষুধ সহ আরো দুটি ওষুধ লেখে দিয়ে বললেন ছেলেকে সারাক্ষণ শুইয়ে রাখা যাবে না। নাওয়া খাওয়া ঠিকমত চাই। ওকে হাসি খুশি রাখতে হবে। টেনশন থেকে ও দুর্বল হয়ে গেছে। আসলে কোন রোগ নেই। বাড়িতে আনার পর ছেলের চাচা বলল , মাত্র সপ্তাহ খানেক আগে ডাক্তার কে তিনশ টাকা দিলাম আজকে আবার দিতে হল। এর কাছে আর নেয়া যাবে না। নিলেন আবার কবিরাজের কাছে। এর মধ্যেই ছেলে আরো দুর্বল। তার ডান পাটা নাড়াতে পারছে না। কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে। কবিরাজ রোগীর মাথায় বিদু্যৎ এর তার লাগিয়ে শক দিলেন। বললেন ৩ দিনের মধ্যেই ফল পাবেন। কোন ডাক্তারের কাছে নিতে পারবেন না। বাড়িতে আনার পর ছেলের বাম পাটা নাড়াতে পারছে না। আরো পরে জ্ঞান শুণ্য। মা হাউমাাউ করে কাঁদতে লাগলেন। এবারের গন্তব্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ডাক্তার কিছু টেস্ট করিয়ে নিলেন। ওষুধ যা দিলেন তাতে পূর্বের সেই ডাক্তারের কিছু ওষুধও ছিল। মা'র বিশ্বাস হল না। রোগীকে বাড়িতে এনে কান্নাকাটি করলেন। ওষুধ দিতে ভুলে যান। রোগীও কিছু খেতে পারে না। এবার গোটা চয় কবিরাজ এসে হাজির। তারা সবাই বললেন, এ রোগ আমরা সারাতে পারবো। এই রোগ ডাক্তার বুঝবে না। তবে চুক্তিতে কাজ করি। একজন কবিরাজ সিলেক্টেড হল। সে বলল, আমি চুক্তিতে কাজ করি। টাকা লাগবে। দেড় কুড়ি হাজার টাকা। রাতের মধ্যেই রোগীর বাবা দিলেন ২৮ হাজার টাকা। দুই হাজার পরে। কবিরাজ কেবল একটা তাবিজ দিলেন। দিন দুই পরে রোগী মারা গেল। সবাই বলল আল্লাহর জিনিস আল্লায় নিয়া গেছে। স্থানীয় এক পত্রিকা সাংবাদিক গেল শোক সংবাদ লিখতে। মৃতের আত্মীয়রা সাংবাদেকের হাতে পায়ে ধরে বলল, ভাই এই খবর পত্রিকায় দিয়েন না। কবিরাজ আমাগো ক্ষতির জন্য বান মারবো। তাবিজ করবো। এই ঘটনা চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানায় ঘটেছে। ছেলেটি ছিল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তার নাম মোঃ ইয়াছিন । পত্রিকার পাতায় আসেনি এ খবর। কোন মামলা হয়নি। কবিরাজ তাদের ব্যাবসা করেই যাচ্ছেন ছাল-পাতা আর তাবিজ দিয়ে।
Dear friends, This is a blog. You can also log on to Bristi Bangla or Earn money for get the information of earning money from internet. thank you.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন