২৬ এপ্রি, ২০১০

তিনি যেভাবে কবিরাজ হলেন

=P~ নাম তার আযাদ আবুল কালাম আযাদ বাপ মায়ের দেয়া নাম নয় এটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক এ নাম দিয়েছেন বাপ-মা শুধু আযাদই ডাকতেন ৫ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করার সময় নাম নিয়ে ঝামেলা বাধে শিক্ষক বললেন 'আযাদ' কোন নাম হল? পুরো নাম বল হেড মাস্টার বললেন আবুল কালাম আযাদ ব্যস এর পর এ নামই চলতে থাকে বাবা শুনে বললেন, নাম নিয়ে কিছু আসে যায় না

সহ পাঠীরা ডাকতে শুরু করল 'আবুল' বলে দেখা হলেই কিংবা দূর থেকেই ডেকে ওঠে আবুল.. একে কি ঠাট্টা বলা যায়! নাম নিয়ে একি বিপদ! নামের গেন্জাম শেষ হবে দাঁড়াও আযাদ ভাবে শুধু আযাদই হবে তার নাম

সে কী আর হয়! নামের বিপদ টা শক্ত করার জন্যই যেন আযাদ বৃত্তি পেয়ে গেল কীর আর করা, টিকে গেল নামটা

ক্লাস নাইনে ওঠে একদিন খবরের কাগজে পড়ল ভারতের একজন পরমাণু বিজ্ঞানীর কথা যার নাম কিনা তারই নামের সাথে অনেকটাই মেলে তিনি আবার সে দেশের রাষ্ট্রপতিও আশ্বস্ত হল আযাদ কিন্তু বেশি সময় টিকল না ভাল করে নামটা পড়ে দেখল এ পি জে আব্দুল কালাম ওফ! এর নামতো আব্দুল কালাম আচ্ছা এক কাজ করলে কেমন হয় আযাদ মনে মনে পরিকল্পনা করে হেড স্যার কে বলব এস এস সি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করার সময় আবুল কেটে আব্দুল দেয়া যায় কিনা

নাহ্ স্যার শুনলেন না তার কথা বললেন এ নামটা খারাপ নয় তাছাড়া তোমার বৃত্তির টাকা তো এ নামেই তুলছো তাই না? ক্লাস এইটের বৃত্তিটাও যদি পেয়ে যাও তখন তোমার এ সার্টিফিকেটগুলো মূল্যহীন হয়ে যাবে এবং টাকাও দেবে না সরকার

নাম নিয়ে দুশ্চিন্তা যায় না আযাদের কেউ কেউ বলল আবুল কালাম আযাদ মানে মুরগির পিতা বড়ই বেসুরো কথা শুনতে বিশ্রী লাগে বাড়িতে গিয়ে মাকে ডেকে বলল, মা আমাকে মুরগির মত দেখা যায়? মাতো কথা শুনে হেসেই ফেললেন মুরগি কেন?
আমাকে মুরগির পিতা বলেছে খুকু আযাদ বলল
মা বললেন, আচ্ছা খুকু কে আমি বলে দেব ও যেন আর না বলে
আযাদ আরও একটু শোনায় মাকে, মা আমার নামের অর্থই নাকি এটা
তোকে ক্ষেপানোর জন্য বলে বুঝেছিস? যা খেয়ে পড়তে বস মা চলে যান কাজে

পড়তে বসল আযাদ পড়ায় কি আর মন বসে? চলে গেল মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে ইমাম সাহেব অনেক অনেক নামের অর্থ জানেন
'হুজুর, আবুল কালাম আযাদ অর্থ কী?' আযাদ কোন ভূমিকা ছাড়াই প্রশ্ন করে
হুজুর বললেন, আবুল শব্দের অর্থ বাবা আর কালাম....... আযাদ বাকি টুকু শোনার অপেক্ষা করে না রাগে ক্ষোভে চলে যায় ভাবে ইমাম সাহেব টাও আমার পেছনে লেগেছে

বাজার থেকে একটা আরবি শিক্ষার বই কিনে আনল নিজেই আরবি শিখবে নামের আসল অর্থ বের করতেই হবে না হয় আজীবন নামের বিড়ম্বনা কে সইবে

আযাদের বাড়ি বগুড়ায় বাড়ির পাশে সুপারির বাগান আছে তারও পরে রাস্তা সেই রাস্তা ধরে ৫ মিনিট হেঁটে গেলেই সুমনাদের আমের বাগান আযাদ সুমনাদের আম বাগানে বসে আরবি ভাষা শিক্ষার বই পড়ছে

একটু দূরেই দেখল একটি জুটি মেয়েটিকে চেনা যায় তাদের পাশের বাড়ির লনিমা ছেলেটিকে আগে কখনো দেখেনি আযাদ সে আবার বইয়ের পাতায় মন দিল সন্ধা হয়ে আসছে জুটিও ভেঙেছে লনিমা ওর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আযাদ বলল, ছেলেটির নাম কিরে?

লনিমা বলল, করিম মিয়া
আযাদ মুখটা একটু বাঁকিয়ে বলল, এটা আবার কী নাম! করিম মানে দয়ালু আর মিয়া মানে একশ এই দেখ আমার বইয়ে লেখা

লনিমা বলল পরের নাম নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে নিজের নাম ঠিক কর আবুল কোথাকার! লনিমা চলে যায় লনিমার কথা শুনে আযাদের মনটা আবার খারাপ হয়ে যায় আবুল শব্দের অর্থ খুঁজতে থাকে আবছা অন্ধকারে বইয়ের পাতা ঘোলাটে হয়ে আসে বই বন্ধ করে বাড়ির পথে হাঁটা দেয়

ক্লাসের পড়া বাদ দিয়ে আবার সেই আরবি বইটিই পড়তে শুরু করে আযাদ নামের রহস্য শেষ করতেই হবে হঠাৎ করেই পেয়ে যায় আবুল এর অর্থ আবুল মানে আব্বু ব্যস বইটা বন্ধ করে ফেলে সে মন খারাপ হয়ে যায় আরও একবার

বাড়ির চাচা জামাল সাহেব মিষ্টি নিয়ে এলেন আযাদদের ঘরে তার মেয়ে হয়েছে সবাই খুব খুশি আযাদও মিষ্টি খেল তারপরই ভাবল জামাল চাচার নামের অর্থটা একটু দেখিতো যেই ভাবা সেই কাজ বই ঘেটে দেখল জামাল নামের অর্থ অবাকই হল সে জামাল মানে উট কিন্তু চাচাকে সে বলল না চাচা শুনে যদি রেগে যায়

খাওয়া দাওয়া হল সবাই ঘুমিয়ে পড়ল আযাদ ঘুমালো না বসে বসে ভাবল মানুষের কী কী নাম আছে এ সব নামের অর্থই বা কী আবার বই খুলল
সকাল হল আযাদ উঠল ঘুম থেকে ওঠেই মনে মনে হাসতে লাগল স্কুলে গেল রাতে আরবি পড়তে পড়তেই সময় পার হয়েছে ক্লাসের পড়া হয় নি প্রথম তিনটি ক্লাসেই মার খেল সে কারণ একটারও বাড়ির কাজ করে নিয়ে আসেনি আযাদ

মার খেলেও মন তার খারপ হল না আযাদের স্যার রা ক্লাস থেকে চলে যেতেই আযাদ ক্লাস মেটদের তাদের নামের অর্থ অনুসারে ডাকা শুরু করল কাউকে ডাকল ঘোড়া, কাউকে গাছ, কাউকে পুরাতন, ইত্যাদি ক্লাসমেটরা বলল এর মানে কী? আযাদ বলল ঘোড়া মানে ফারাস, পুরাতন মানে আতিক ব্যস লেগে গেল মারামারি কোন রকম জান বাাঁচিয়ে আযাদ দৌড় দিল বাড়ির দিকে

চাচার যে মেয়েটা হয়েছে তার নাম কী রাখা যায়? আযাদ গেল তার চাচীর কাছে বলল, আন্টি, ওর নাম যুফাইদা রাখুন দারুন একটা নাম নামটা নিয়ে পরীক্ষা করতে চাইলেন তিনি আযাদের চাচার সাথে কথা বললেন তিনি রাজি হলেন রাখলেন ঐ নামটাই মেয়েটির নাম হল যুফাইদা

আযাদ আবার নিজের নাম টির বাকী অংশটুকুর অর্থ বের করতে চাইল খুঁজল আরো কিছু পৃষ্ঠা পেয়েও গেল কালাম মানে কথা আযাদ খুশি হল অন্তত সে মুরগির পিতার বিস্ফোরণ থেকে রেহাই পেয়েছে

কিন্তু আযাদ শব্দটির অর্থ বের করা গেল না আবার গেল ইমাম সাহেবের কাছে বলল, হুজুর আমাকে মাফ করবেন আমি বুঝতে পারি নি আপনি ঠিক মতই আমার নামের অর্থ করতে চেয়েছিলেন আমার নামের শেষ অংশ আযাদ শব্দটির কী অর্থ ?
হুজুর বললেন, স্বাধীন এটা উর্দু শব্দ
আচ্ছা হুজুর আমাকে উদর্ু ভাষার একটা বই দেবেন? আযাদের নামের অর্থ খোঁজার নেশায় পেয়ে বসে
নিতে পার কিন্তু পড়ে আবার ফেরত দিয়ে যেও এই নাও বুক সেল্ফ থেকে বই বের করে দিলেন ইমাম কুরবান আলী

ধন্যবাদ হুজুর আজাদ বই নিয়ে চলে যায়

রাতে উর্দু ভাষার বইটা নিয়ে বসে আযাদ কিন্তু এ বইটা উর্দু ভাষা শিক্ষার বই নয় তাবিজের বই ভুল করেই হয়ত দিয়ে দিয়েছেন ইমাম সাহেব

বইটির একটি পাতায় আাঁকা রয়েছে একটি নকশা তারই পাশে নির্দেশনা দেয়া আছে নির্দেশনাটি হল, 'অত্র নকশাখানা জাফরান কালি দিয়া লিখিয়া ক্রন্দনরত শিশুর মাতার (মা) চুলের সহিত বাঁধিয়া দিলে তাহার ক্রন্দন থামিয়া যাইবে

আযাদ মাঝে মাঝে তার চাচাত বোনের কান্নার শব্দ শোনে সে ঐ নকশাটি লাল কালি দিয়ে একটি কাগজে আঁকে এবং তার চাচীর চুলে বেঁধে দিতে বলে চাচী তাই করে কাকতালীয় ভাবেই কিনা কে জানে বাচ্চাটি আগের মত আর কন্নাকাটি করে না

চাচা তো শুনেই অবাক বলে কী আমার ভাতিজা তো কামেল মানুষ নিশ্চয় সে কিছু জানে না জানলে কি আর কন্না ভাল হত?

চায়ের দোকানে ভাতিজাকে নিয়ে গর্ব করে জামাল চাচা আরো দ'ু একজন যোগ দেয়, ছোট বলে অবহেলা করার কারণ নেই আল্লাহ কার ভেতর কোন কেরামতি দিয়ে দেন সবই আল্লাহর লীলা খেলা এর পর থেকে মানুষ আসতে থাকে আযাদদের বাড়িতে কেউ আসে পানি পড়ার জন্য, কেউ তেল পড়ার জন্য, কেউবা ঝাড় ফুঁকের জন্য আযাদ খুবই বিরক্ত মানুষ শুধু শুধুই আসছে ওর কাছে আসলে ও কবিরাজি কিছুই জানে না্ চাচাতো বোন টির হয়তো পেটে গ্যাস জমেছিল তাই কেঁদেছে গ্যাস মুক্ত হওয়ার পর সে আর কান্নাকাটি করছে না এতে তাবিজের কী হল ওটাতো চাচীর সাথে একটু দুষ্টামি করার জন্যই করেছিল আযাদ

যাই হোক আযাদ এখন আরো দুষ্টামি করার সুযোগ পেয়ে গেল হাতের ব্যথার জন্য যে আসছে তাকে সে তেল মালিশ করতে বলে যে চোখ ওঠা নিয়ে আসে তাকে একটা ফুঁ দিয়ে দেয় আর যে তার অবাধ্য গরুকে বস মানাতে আসে তাকে দেয় লাঠি পড়া সবই দেয় মজা করার জন্য আযাদের ধারণা এ মানুষগুলো যখন দেখবে তার কবিরাজিতে কাজ হচ্ছে না তখন এমনিতেই আর আসবে না

একটা খবর রটল এলাকায় লনিমা আর করিম মিয়া ভেগেছে ওরা দুজন হয়ত বিয়েও করে বসেছে ততক্ষণে খোঁজাখুজি হল চারদিকে কেউ পেল না

এভাবেই গেল একবছর সব কিছুই চলছিল ঠিক মত লনিমা আর করিমের খবর পাওয়া যায়নি এভাবে চলে গেলেও হত কিন্তু হঠাৎ যেন সবাইকে অবাক করে দিয়ে লনিমা ফিরে এল বাপের বাড়িতে করিম মিয়ার খোঁজও পাওয়া গেল

প্রথম ধাক্কায় সবাই খুঁশি হলেও তা বেশিক্ষণ ধরে রাখা গেল না লনিমাকে ছেড়ে দিয়েছে করিম

আযাদের বাড়িতে এসে উপস্থিত হলেন লনিমার বাবা তাবিজ টাাবিজ করে কিছু করা যায় কিনা আযাদ বাড়িতে ছিল না বাড়ির অদূরে কোন এক শহরে থেকে পড়াশুনা করছে সে কবিরাজির জন্য কেউ বিরক্ত করার সুযোগ পায়নি এতদিন কিন্তু লনিমার বাবার তাকে যেন খুব বেশি দরকারি মনে হল তিনি তাকে খঁজে বের করতে চাইলেন

এর মধ্যে খুকু লনিমার জন্য করিম মিয়ার কাছে অনেক বার গিয়েছে বুঝানোর চেষ্টা করেছে যে, বিয়ে যখন তাকে করেছ তাকে ঠকানো ঠিক হয়নি করিম মিয়া বলে লনিমা কে আমি গ্রহণ করব যদি সে তোমার মত সুন্দরী হয়ে যেতে পারে খুকু লজ্জা পেয়ে চলে আসে

একদিন আযাদের চাচাতো বোন যুফাইদার জ্বর হল চাচী ভাবলেন আযাদের কথা কিন্তু আযাদ তো গ্রামে নেই তিনি গেলেন মসজিদের ইমাম কুরবান আলীর কাছে

ইমাম সাহেব বললেন, বাচ্চার কী নাম? বয়স কত?
বয়স ১ বছর হবে নাম যফাইদা বললেন চাচী

ইমাম সাহেবের কোথায় যেন একটু খটকা লাগল তিনি বললেন এ নাম কি আপনি রেখেছেন? নামটা তো সুবিধাজনক নয়
চাচী উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন, কেন? কী হয়েছে?
ইমাম সাহেব বললেন, যুফাইদা শব্দের অর্থ জানেন?
না চাচীর জবাব
এর অর্থ বাচ্চা ব্যাঙ ইমাম সাহেব কথা শেষ করতেই চাচী হাসলেন, মনে মনে ভাবলেন, আযাদ টা কত পাজি!

সেদিনই বাড়ি এল আযাদ চাচী তার কান ধরলেন, বললেন এই দুষ্টুমির কী কারণ চাচাতো বোন কে বাচ্চা ব্যাঙ বানিয়ে দিলি? ওর জন্ম নিবন্ধন এ নামেই যে হল
আযাদের মুখে কোন কথা নেই চাচী আবার বললেন, ব্যাঙের বাচ্চা হোক আর যাই হোক ওকেই তোর বিয়ে করতে হবে

আযাদ লজ্জা পেয়ে চলে যাাবার চেষ্টা করছে এমন সমই জামাল চাচা লনিমার বাবাকে নিয়ে হাজির হলেন

লনিমার বাবা বললেন তার সমস্যার কথা আযাদ তো শুনেই অবাক, বলে কী! এ কাজ আমি পারবো না আমি কবিরাজ নই
কিন্তু লনিমার বাবা ছেড়ে দেবার পাত্র নন একদম আঠার মতই পেছনে লেগে গেল বারবার তিনি অনুরোধ করছেন আর আযাদ বারবার এই অযুহাত সেই অযুহাত দেখিয়ে পালিয়ে থাকছে

আযাদ সিদ্ধান্ত নেয় এ যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য শহরে চলে যাওয়াই ভাল শহরের পথে রওনা হয় সে কিন্তু পালানোর চেষ্টা করেই কি আর পালানো যায়! লনিমার বাবা পথ আটকে দঁড়ালেন কী আর করা যেতেই হল তার বাড়ি
সে কয়েকটা বিস্কুট দিল লনিমার বাবাকে বলল, এই বিস্কুট খাওয়াতে হবে ছেলেকে দেখেন পারবেন কিনা খাওয়াতে পারলেই ফল হবে শুধু তাই নয় ২৪ ঘন্টার মধ্যেই খাওয়াতে হবে না হয় হবে না তবে হ্যাঁ, যদি এই বিস্কুট কোন মেয়ে খেয়ে বসে তাহলে ঐ মেয়ের সংগে ছেলেটার সম্পর্ক তৈরি হবে

সব শর্তই মেনে নিল লনিমার বাবা আযাদের ধারণা ছেলেকে এই বিস্কুট খাওয়াতে পারবে না কাজও হবে না সেও বেঁচে যাবে

খুকুকেই রাজি করাল একাজের জন্য খুকু এর আগেও করিম মিয়ার সংগে কথা বলেছে করিম আর লনিমার প্রেমের সম্পর্ক তৈরির পর নানা ভাবে সে এ দুজনকে সাহায্য করেছে সে করিম মিয়াকে এই বিস্কুট খাওয়াতে যাবে
কিছুদিন আযাদ ভাল ভাবেই শহরে সময় কাটাল অমনি একদিন শুনল খুকু আর করিম এখন রঙিন জুটি ওদের মাঝে মাঝেই শুপারি বাগানে দেখা যায় বসে গল্প করে, হাত ধরে টানাটানি করে খুকুও নাকি সেদিন বিস্কুট খেয়েছিল করিমের অনুরোধে
পুরো গ্রাম ছড়িয়ে গেছে এ খবর গ্রাম ছেড়ে পাশের গ্রামে কিংবা আরো দূর সবাই এ কবিরাজ কে একনজর দেখতে চায় তাদের ছাগল ছানার জন্য কাঁঠাল পাতা পড়া নিতে চায় তাদের ছাগল ছানা কাজের চেয়ে বেশি লাফায় তাই কিন্তু কবিরাজের পাত্তা নেই যারা আগে এসে উপকার পেয়েছে মনে করেছে তারা আযাদের বাড়িতে নতুন গাইয়ের দুধ, নারকেল গাছের প্রথম ডাব, এক মন ধান, আধা সের রসগোল্লা, কিংবা কেজিখাণেক আঙুর দিয়ে যায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয় আযাদ

লনিমার বাবা বলছে কবিরাজের কী দোষ দোষ তো খুকুরই সে কেন বিস্কুট খেল যাই হোক ওদের মধ্যে বিয়ে হল

লনিমার বাবার আর কিছু করার থাকল না মেয়েকে বোঝা মনে করে সব মেনে নিলেন দোষ দিলেন কপালের লনিমাও তাই মনে করল সে আর বিয়ের চিন্তা করল না

একদিন এক ছেলে এল আযাদের বাড়ি সে এক মেয়েকে তার প্রেমে রাজি করাতে চায় একটা তাবিজ দিয়ে যদি কাজ হয়

আযাদ বাড়িতে ছিল না শহরের ঠিকানা জোগাড় করে সে আযাদের কাছে আসে আযাদ তার কাছে শপথ করে বলে, ভাই আমি কোন কবিরাজি জানি না মানুষ শুধু শুধু আমাকে নিয়ে মাতামাতি করছে আমার পড়ার ক্ষতি হচ্ছে কিছু রোগ আছে যা এমনিতেই দু'একদিন পর ভাল হয়ে যায় একেই মানুষ মনে করে আমার কবিরাজি
একবার আযাদের হল জ্বর তার চাচা এলেন তার কাছে বললেন, এবার তোকে চিকিৎসা করবে কোন কবিরাজ! আযাদ বলে আমার চিকিৎসার জন্য আমাকে একটি ভাল ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান
চাচারা তার কোন পাত্তাই দিলেন না তাকে নিলেন একজন কবিরাজের কাছে কবিরাজ রোগী আযাদকে দেখে বললেন, ৩৫ হাজার টাকা লাগবে চুক্তিতে রোগ ভাল করি আযাদের বাবা মা আর চাচা তাই করলেন কিন্তু জ্বর সেরে গেল না তাকে নিতেই হল এমবিবিএস এর কাছে

This is a short story, named `Jebhabe tini kabiraj holen' it is so funny. you can comment me. I am Jisan , not an american but Bangladeshi, so I write in bangla.
আবুল নয় আবুল শব্দের অর্থ সে পায়নি এখনো একটা একটা নামের অর্থ দেখছে আর হাসছে

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner